সোনাগাছি সামনের দিয়ে যাওয়ার সময় মহা বিপদে পড়লেন দুই আমেরিকান ব্লগার। এই দুই বিদেশি নাগরিক কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন সোনাগাছির যৌনকর্মীরা। কোন অন্যায় না করেও বিশাল ঝামেলায় জড়ান এই দুই আমেরিকার নাগরিক। ক্রিস লুইস এবং ম্যাক্স এই দুই ব্লগার ভারত সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুরে ঘুরে খুব সুন্দর সুন্দর ভিডিও বানিয়ে থাকেন। শহর কলকাতায় এসেও ঠিক এরকমই একটি ভিডিও বানাতে গিয়ে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন সোনাগাছির ‘যৌনকর্মী’দের সঙ্গে।
মূলত তারা ট্যাক্সিতে করে তাদের হোটেলের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। তারা যখন সোনাগাছির রাস্তার উপর দিয়ে ট্যাক্সিতে করে যাচ্ছিলেন তখন ওই ট্যাক্সি ড্রাইভার এই বিদেশি নাগরিকদের এই রেড লাইট এরিয়ার সম্পর্কে বলছিলেন। রাস্তার উপর খদ্দেরের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা কিছু যৌনকর্মীকে দেখিয়ে টেক্সি ড্রাইভার বলেন। এনারাই হচ্ছেন এখানকার যৌনকর্ম এবং হঠাৎই তখন টেক্সিটি স্লো করে দেন।
তখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা যৌনকর্মীরা ক্যামেরা দেখে বলেন। “এ বাবা এই দেখো ক্যামেরা করছে।” এবং তারা ক্যামেরা করতে বারণ করেন। তখন ব্লগার ক্রিস লুইস বলেন আমি নিজের ভিডিও তুলছি আমি আপনাদের ভিডিও তুলিনি।
তবে ক্রিসের এই কথা কিছুতেই মানতে চান না ‘যৌনকর্মীরা’। তারা ক্রিসের ভিডিওটি ডিলিট করতে বলেন এমনকি মা-বাবা তুলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
এক যৌনকর্মী বলেন আপনি আমাদের ভিডিও করছেন কেন? আমরা এই কাজ করছি আমাদের পরিবারের লোকেরা জানেন না। ভিডিও করলে তো তারা জানতে পেরে যাবে।
তবে প্রশ্নটা এখানেই উঠছে। তবে কি কলকাতার কিছু সংখ্যক মানুষ তাদের পরিবারকে না জানিয়ে যৌন পেশায় যুক্ত হয়েছেন? এই সকল যৌনকর্মীরা বহু মানুষকে এভাবেই হেনাস্তা করে থাকেন। পুলিশের নাকের ডগায় দিনের পর দিন ঘটে চলেছে এ সকল ঘটনা।
গাড়িতে থাকা ট্যাক্সি ড্রাইভার এই এলাকার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এই বিদেশি নাগরিকের কাছে।
ট্যাক্সি ড্রাইভার বলেন, ‘এই সকল যৌনকর্মীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। এবং কোন খরিদ্দার পেলে গলির ভেতরে রুমে নিয়ে যায়। ১০০ টাকার কথা বলে নিয়ে তাদের কাছে যা থাকে সর্বস্ব লুটে নেয়। যেহেতু তাদের ঘর তাই সেখানে তাদের নিয়মই চলে। সর্বোস্য ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার কথাও তুলে ধরেন এই ট্রাকসি ড্রাইভার।
জানা যায় সোনাগাছিই হল এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় ‘দেহ ব্যবসার’ কেন্দ্র। এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে কমপক্ষে ১০ হাজার যোনকর্মী এখানে দেহ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে বিভিন্ন বয়সের যৌন কর্মীরা এই এলাকায় তাঁদের জীবিকা নির্বাহ করেন। ওল্ড পিলগ্রিম রোডে গড়ে উঠেছিল সোনাগাছি। বর্তমানে ওই এলাকা রবীন্দ্র সরনি নামে পরিচিত।
এই দেশ দেহ ব্যবসা ছাড়াও সমাজে আরও বহু ধরনের পেশা আছে যা করে সম্মানের সঙ্গে বাঁচা যায়। কেউ ক্যামেরা তুলে ধরলে অস্বস্তিতে পড়তে হয় না। এর জন্য প্রয়োজন একটি শিক্ষিত এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ। তবে সেই সমাজ কবে গড়ে উঠবে সেটাই দেখার।